হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, জায়নবাদী সংবাদপত্র ‘ইসরায়েল হিউম’ সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট আর্থিক সংকট নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আকাশচুম্বী ব্যয়
নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত তেল আবিবের ওপর ৫০০ মিলিয়ন শেকেলেরও (প্রায় ১৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেশি ব্যয়ভার চেপেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় এই সংখ্যাটি অত্যন্ত সতর্কতামূলক এবং ভবিষ্যতে তা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২. সেনাবাহিনী ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বাকযুদ্ধ
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সেনাবাহিনীর কাঠামোর সমালোচনা করে বলেছেন, ২০০ বিলিয়ন শেকেলের বিশাল বাজেট থাকা সত্ত্বেও জেনারেলদের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নেই। তাদের মতে, এই যুদ্ধ ইসরায়েলের আগামী বছরগুলোর বাজেটকেও গিলে ফেলবে।
৩. ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাফাই
অন্যদিকে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, ইরানের সঙ্গে আকস্মিক সংঘাতটি ছিল একটি ‘জরুরি মিশন’, যা আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব ছিল না। এর জন্য তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন ছিল এবং একে প্রথাগত বাজেটের কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব ছিল না।
৪. অর্থায়ন ও ক্রমবর্ধমান ঘাটতির মুখে স্থবিরতা
ইসরায়েলের দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চললেও তাদের মধ্যে মতপার্থক্য গভীর। ইসরায়েলের যুদ্ধ বাজেট বিশাল ঘাটতির মুখে পড়েছে। মন্ত্রিসভা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি যে, এই যুদ্ধের খরচ সেনাবাহিনীর বর্তমান বাজেট থেকে কাটা হবে নাকি অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হবে।
৫. উপসংহার
‘ইসরায়েল হিউম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদী সংঘাতও ইসরায়েলের বাজেটের কাঠামোর ওপর প্রচণ্ড আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যকার ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এই চাপ ইসরায়েলের অর্থনীতি এবং সামরিক বাজেটের জন্য আরও বড় সংকটে রূপ নিতে পারে।
আপনার কমেন্ট